সাংবাদিক শ্যামলের বাসায় হামলার অভিযোগ, পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় প্রবীণ সাংবাদিক

নারায়ণগঞ্জ এডিটরস ক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলের বাসায় হামলা, গুম-খুনের হুমকি এবং শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন্দর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরের একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় আশরাফ উদ্দীনের মেয়ে আইরিন সুলতানা ওরফে সাথি, তার স্বামী মনোয়ার হোসেন, মো. ফারুকসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সাংবাদিক শ্যামলের বাসায় অনুপ্রবেশ করে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ডাকাতি ও বিভিন্ন মামলার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় সাংবাদিক শ্যামল তার স্ত্রী ও নাতনিকে নিয়ে বরফকল এলাকার চৌরঙ্গী পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে একটি দাওয়াতে গিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে অভিযুক্তরা বাসায় ঢুকে তার একমাত্র কন্যা, ১৪ মাস বয়সী নাতনি এবং বাসার গৃহকর্মীর সামনে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তার মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শ্যামলের মেয়ে মোবাইলে বিষয়টি জানালে তিনি দ্রুত বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বন্দর থানার ওসিকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্থানীয়দের জমায়েত টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে গালাগালি, গুম-খুন, শিশু অপহরণ এবং রাস্তায় বের হলে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পায় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

এর আগে গত ৫ মে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার বন্দর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিক শ্যামল ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

সর্বশেষঃ