নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় যুবদল নেতা মজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা হরি আনন্দ–এর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণবাগ এলাকায় বেশ কয়েকটি সরকারি জমি রয়েছে। এসব জমি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কিছু জমি বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম এতিম ও অসহায় শিশুদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি জমির একটি অংশ বরাদ্দ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জমিটি দখল করার উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে যুবদল নেতা মজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা হরি আনন্দ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেন।এ সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় মজিবুর রহমান ও হরি আনন্দ তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। এমনকি মুঠোফোনে আবার বাধা দিলে রাশেদুল ইসলামকে হত্যার পর গুম করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জমি মাপার আমিন জানান, তিনি নকশা অনুযায়ী জমিটি মেপে দেখেছেন এবং সেটি সরকারি জমি বলেই নিশ্চিত হয়েছেন।ভুক্তভোগী রাশেদুল ইসলাম বলেন,আমি এতিম ও হতদরিদ্র ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করতে সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়েছি। কিন্তু এখন সেই জমিটি দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মজিবুর রহমান বলেন,
“যে জমিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি সরকারি জমি নয়। এটি আমাদের নিজস্ব জমি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি আমি জেনেছি। আমরা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করব। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




