নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কেউ যাতে নাশকতা, ভাঙচুর কিংবা শিল্পকারখানা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রাখছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নেতৃত্বে অবস্থান নেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে পরাজিত শক্তি ও গুপ্তচক্র নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রমিকদের খেটে খাওয়া মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ন্যায্য দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তবে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তারা প্রকৃত শ্রমিক নয়। সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা গতকাল থেকেই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন, যাতে কোনো পক্ষ পোশাক কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে না পারে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, তারা কোনো মালিকের পক্ষ নিয়ে অবস্থান করছেন না। বরং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকের ছদ্মবেশে কিছু ব্যক্তি গাড়ি ভাঙচুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার (২ নভেম্বর) ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় চার ঘণ্টার এ অবরোধে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পকারখানা ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।




