নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন—তিনি কি এবার মেয়র পদে মাঠে নামছেন?
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন রাকিব। নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, কর্মীদের সমন্বয়, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি দলীয় বিভাজন কমিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ও একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাঠে ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ আরও কয়েকজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলীয় ভেতরেও মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ ছিল প্রকাশ্য। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও বিজয় নিশ্চিত করতে রাকিবের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি।

ভোটের ফলাফলেই প্রভাবের ছাপ
নির্বাচনের ফলাফলে নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ইলিয়াস মোল্লা পান ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর পান ১৮ হাজার ৯৩৩ ভোট।
দলীয় সূত্র বলছে, ভেতরের বিভাজন কাটিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার পেছনে রাকিবের কৌশল ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ বড় ভূমিকা রেখেছে।
নাসিক নিয়ে নতুন সমীকরণ ,জাতীয় নির্বাচন শেষ না হতেই এখন আলোচনায় নাসিক নির্বাচন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রাকিবের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। শিল্পপতি হিসেবে ব্যবসায়িক পরিচিতি, সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা—সব মিলিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, “সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রাকিব। নাসিক নির্বাচনে এলে তিনি শক্ত প্রার্থী হতে পারেন।”
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন—সংসদ নির্বাচনের চমক কি এবার সিটি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে?




