রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে উত্তেজনা; ৭ পুলিশ আহত

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ , টিয়ারশেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর, ইউএনও অবরুদ্ধনারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ-এ বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক-এর মৈকুলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

শ্রমিকরা জানান, মৈকুলী এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেড নামক পোশাক কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। গত ডিসেম্বর থেকে টানা তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, মালিকপক্ষ বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এছাড়া যারা বেতনের জন্য প্রতিবাদ করেছেন, তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে বলেও দাবি শ্রমিকদের।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সকাল ৮টার দিকে তারা উত্তেজিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দুপুর ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকরা কারখানার ভবনের জানালার কাচ ও সড়কে থাকা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেনাবাহিনী যোগ দেয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাকে কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ঘটনাস্থলে এসে কারখানার ভেতর থেকে ইউএনও সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করেন। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সর্বশেষঃ