ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে কোটি টাকার প্রতারণা: প্রবাসে বসে মিনহাজ–সাঈদ চক্র সক্রিয়

ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মিনহাজ আহমেদ (৩০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার লক্ষীপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে সাঈদ আহমেদ।

তদন্তে জানা গেছে, মিনহাজ বর্তমানে পোল্যান্ডে এবং সাঈদ দুবাইয়ে অবস্থান করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষ ও প্রবাসপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট তৈরি করে ভিসার আবেদন করে। আবেদন বাতিল হলে তারা নকল স্টিকার ভিসা তৈরি করে পাসপোর্টে সংযুক্ত করে দেয়। পরে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এতে অনেক প্রবাসপ্রত্যাশী বিমানবন্দরে আটক হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে টিপু সুলতান জানান, সার্বিয়ায় ভিসা দেওয়ার কথা বলে মিনহাজ তার কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ভিসা না দিয়ে টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি ও গালাগালের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর তাকে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে, যা প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও মেসিডোনিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভিসা দেওয়ার নামে প্রতারণা চালাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে বৈধ শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দূতাবাস ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহারের একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রদানের হার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সার্বিয়া, বসনিয়া ও রোমানিয়ায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি পাচারকারী চক্রের ডজনখানেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেটের কয়েকজন রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এত অভিযোগের পরও চক্রটির মূলহোতা মিনহাজ আহমেদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেসবুক থেকে

এই মাত্র পাওয়া

সর্বশেষঃ