ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, ১০ ঘণ্টা লাশ আটকে রাখলো হাসপাতাল

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল-এ ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসার নামে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়ার পরও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। এমনকি মৃত্যুর পর হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় প্রায় ১০ ঘণ্টা নবজাতকের মরদেহ আটকে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৭টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে শিশুটির মা ও চাচা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা ধার এনে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহত নবজাতকের পরিবার ফেনী জেলার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা প্রবাসে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত নবজাতকের মা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, “আমার সন্তান আইসিইউতে ছিল। আমাকে না জানিয়েই তাকে আইসিইউ থেকে বের করে ফেলা হয়। এর আগে আমার মাত্র ১২ দিনের শিশুকে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পর তার শরীর কালো হয়ে যায় এবং পেট ফুলে যায়। এরপর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে আমাকে জানানো হয় আমার সন্তান মারা গেছে।”

শিশুটির চাচা মিশু মিয়া বলেন, “প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ নিয়েছে হাসপাতাল। সব ওষুধ তাদের কাছ থেকেই কিনতে হয়েছে। বাইরে থেকে ওষুধ আনলে তারা নিত না। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছি। তারপরও ভুল চিকিৎসার কারণে বাচ্চাটি মারা গেছে। পরে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করে লাশ আটকে রাখা হয়।”

স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একটি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে তিনদিন আগে। তাদের অভিযোগ, শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের অজুহাতে মরদেহ আটকে রাখে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় হাসপাতালের সামনে স্বজনদের আহাজারি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ডা. মজিবুর রহমান বলেন, “দুইটি শিশুকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রথম শিশুটির মাথায় ছোট টিউমার ছিল, সে দ্রুত মারা যায়। দ্বিতীয় শিশুটির অবস্থাও খুব খারাপ ছিল। আমরা আগেই স্বজনদের জানিয়েছিলাম শিশুটির বাঁচার সম্ভাবনা কম।”
তিনি আরও বলেন, “রোগীর স্বজনের অনুমতি ছাড়া আইসিইউ থেকে বের করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বলেছিলাম, আইসিইউ থেকে বের করলে শিশুটি বাঁচবে না। সব হাসপাতালেই নিয়ম অনুযায়ী বিল পরিশোধ করে মরদেহ নিয়ে যেতে হয়। এখানেও আমরা তাই বলেছি।”

সর্বশেষঃ