টাকার লোভে বারবার নিজ সন্তান বিক্রি, বাবা সহ মানব পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

# দুই শিশু উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে টাকার লোভে একের পর এক নিজের সন্তান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক পিতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত দুই শিশুকেও।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩), শিশুদের পিতা মেজবাহ উদ্দিন (৪০) এবং নুর-ই-নাসরিন (২৯)। এদের মধ্যে মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, গত ২১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী আব্দুর রহমান জুবায়েতকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়। পরে শিশুদের মা ঝর্না আক্তার অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গত ১৮ মে গভীর রাতে বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে গ্রেপ্তার এবং তার হেফাজত থেকে শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় শিশুদের বাবা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি স্ত্রীর কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক ও অনলাইন জুয়ার আসক্ত মেজবাহ উদ্দিন একাধিক বিয়ে করেছেন এবং টাকার বিনিময়ে নিজের সন্তানদেরও বিক্রি করতেন। গত ২১ এপ্রিল পূর্বপরিচিত রাব্বানীর সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে বাসা থেকে নিয়ে যান তিনি। পরে তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনার তথ্য জানতে পারেন শিশুদের মা।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ ও পাচার করতেন তিনি। তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণও পেয়েছে পিবিআই।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, “রাব্বানীর বিরুদ্ধে আরও শিশু পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মেজবাহ উদ্দিন ৪ থেকে ৫টি বিয়ে করেছেন এবং নিজের সন্তানদের পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

সর্বশেষঃ