প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকারের চলমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন উত্থাপিত তিনটি পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন দেশের শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বর্তমানে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি” দেশের ১৫০টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের অবশিষ্ট উপজেলাগুলোতেও “মিড ডে মিল কর্মসূচি” চালুর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিদেশগামী কর্মী ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে একাধিক বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান ও মান্দারিন ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে তৃতীয় ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি করে আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫” কার্যক্রমের আওতায় শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদে উত্থাপিত এসব প্রশ্ন ও জবাবের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা ও অগ্রগতির চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।




