নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণের পর তার মোবাইল ফোন থেকে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশি-বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে তার কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুন নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে সোহাগকে অপহরণ করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। পরবর্তীতে সেই ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এবং যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইল শুরু করা হয়।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহাগ অভিযোগ করেন, চক্রটি কখনো সাংবাদিক, কখনো ক্রাইম রিপোর্টার বা অনলাইন মিডিয়াকর্মী পরিচয়ে যোগাযোগ করে টাকা দাবি করছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে তার ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দেশীয় নম্বরের পাশাপাশি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে একইভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনায় আল আমিন ওরফে জিতুকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ড্রাইভার কবির হালদার (৩৯), লতিফ সিদ্দিকী রতন (৩৩), সাব্বির আহমেদ (৩০), ইব্রাহিম খলিল (৩১) ও ইমরান হোসেন মোহন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতাসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং জেলা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, মেসেজ ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, অপহরণের ঘটনায় সোহাগের স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের কয়েকজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জিতুকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দীর্ঘদিনের ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির কারণে সোহাগ ও তার পরিবার চরম মানসিক চাপে রয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৫টি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো চক্রটির নেটওয়ার্ক শনাক্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপহরণের পর মোবাইল ফোন থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতা এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটিকে শনাক্তের কাজ চলছে।




