নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুমুখী ভূমিকা ও দলবদলের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন কথিত এক বিএনপি নেত্রী। এ যেনো একই অঙ্গে বহুরূপ। দুমুখো সাপের ভুমিকায় আওয়ামী দোসর কথিত বিএনপি নেত্রী পান্না আহমেদের। এই বহুরূপী নারীর যেনো রূপের কোনো শেষ নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক, বিশেষ করে তার অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পান্না আহমেদ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কখনও তিনি আওয়ামীলীগ করেছেন কখনও করেছেন বিএনপি আবার কখনও করেছেন জাতীয় পার্টি। এসব দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। গিরগিটির মত রূপ বদলানো সেই নারী সর্বশেষ গত ৫ আগস্টের পর তিনি আবারও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এখানেও শেষ নেই কখনও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খাঁন বলয়ে আবার কখনও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার বলয়ে। তার এসব কর্মকান্ডে বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ের দীর্ঘ দিনের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তবে একটি প্রভাবশালী বলয়ের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পান্না আহমেদ একসময় ঢাকায় বিএনপির বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে টাকার বিনিময়ে নারী সমর্থক সরবরাহ করতেন। ওই সূত্রে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পরিচিতি গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং সেখানেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ – ৪ আসনের সাবেক এমপি গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমানের বিভিন্ন সভা, সমাবেশেও তার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগ মূহুর্তে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচি ছিলো শান্তি সমাবেশ, শান্তি মিছিল সে সকল কর্মসূচিতে এই পান্না আহমেদ ব্যানার হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনের সাড়িতে থেকে।
আর এই বহুরুপী পান্না আহমেদকেই স্লেটার দিয়ে যাচ্ছে বিএনপিরই একটি বলয়ের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। যার কারনে বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকলেও কেউ কিছু বলছে না।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পান্না আহমেদের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট পরিচয়ে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হলে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির বিভিন্ন বলয়ের নেতাকর্মীরা তার এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হলেও একটি নির্দিষ্ট বলয়ের সমর্থন থাকায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।




