নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও রাতের ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে আজমেরী ওসমান অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার এবং কথিত অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেটিজেনরা।
অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজকেন্দ্রিক মাদক কারবারের সঙ্গে ‘আলম’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সুমন’ নামের এক ব্যক্তিকে আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ, মাদক ব্যবসা এবং নিজস্ব লোকজন নিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সুমনের মুন্সীগঞ্জে বাড়ি রয়েছে এবং সেখানে তাঁর নামে বা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১০টি দোকান রয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের গলাচিপা এলাকায় দু’টি ফ্ল্যাট কেনার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গলাকাটা পুকুরপাড় এলাকার ‘বাদশা’ ও তাঁর ছেলে ‘আল্লান’ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। আল্লানকে আজমেরী ওসমানের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকার কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘শান্ত’ নামের আরেক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সুমন, আলম, আল্লান ও শান্ত- এই চারজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় তৎপরতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কয়েকজন কলেজ রোড এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে ‘পাপেল’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অয়ন ওসমানের কর্মী হিসেবে চলাফেরা করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে রাতের বেলায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত।
অভিযোগকারী পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক কারবার বন্ধ এবং রাতের ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ শহরকে মাদক ও ছিনতাইমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন অভিযোগকারী।




