চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় দ্বারে দ্বারে, নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র

একজন অসুস্থ মানুষ যখন হাসপাতালের দরজায় পৌঁছান, তখন তাঁর চোঁখে থাকে সুস্থ হয়ে ফেরার স্বপ্ন, স্বজনদের মনে থাকে প্রিয় মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখার আকুতি। কিন্তু সেই মুহূর্তে চিকিৎসা পেতে দেরি, ব্যয়ের চাপ কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অসহায়ত্ব আরও বেড়ে যায়। শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসাসেবার সুযোগ কতটা বিস্তৃত, আর সেই সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে কতটা, এ প্রশ্ন তাই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতাল আছে, চিকিৎসক আছেন; কিন্তু সংকটের মুহূর্তে একজন রোগী কতটা সহজে, নিরাপদে ও সাশ্রয়ী ব্যয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

নারায়ণগঞ্জে সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কম নয়। খানপুরের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা, চিকিৎসক-নার্সের উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং রোগ নির্ণয়ের সুবিধা কতটা পর্যাপ্ত, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপের কারণে সেবা পেতে বিলম্ব হলে অনেকেই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যান। সেখানে চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও শয্যাভাড়ার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাই চিকিৎসার খরচে স্বচ্ছতা এবং রোগীদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যদিকে, ভুল চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠলে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। রোগীর মৃত্যু হলেই ভুল চিকিৎসা প্রমাণিত হয় না; চিকিৎসার নথি, বিশেষজ্ঞ মতামত ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করতে হয়।

এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের তদন্ত, সেবার মান যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, সেবার স্বচ্ছতা, নিরাপদ চিকিৎসা এবং রোগীর অধিকার রক্ষা।

প্রশ্ন হলো, নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ কতটা নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন?

 

জুবায়ের শিকদার

ঢাকা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার

বাংলা এডিশন

ফেসবুক থেকে

এই মাত্র পাওয়া

সর্বশেষঃ