নির্ধারিত কর্মসূচির প্রায় আধা ঘণ্টা আগে নারায়ণগঞ্জ সরকারি (ভিক্টোরিয়া) জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। উপস্থিতির তালিকা হাতে নিয়ে একে একে নাম ধরে ডাকেন তিনি। পরিদর্শনের সময় কয়েকজনের অনুপস্থিতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক অসংগতি নজরে এলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী এবং দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নবনির্মিত আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধনের আগে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এক সাথে ১০টি জেলায় ভার্চুয়ালে আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী চিকিৎসা সেবার মান, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয় খতিয়ে দেখেন। এ সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা সবাই একটি পরিবার। জনগণের সেবার দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলা সহ্য করা হবে না। অতীতের মতো দায়িত্বহীনতা আর চলবে না। হাসপাতালের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে জর্জরিত ছিল। হাম রোগের প্রাদুর্ভাব, টিকার ঘাটতি, যক্ষ্মা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবসহ একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে পর্যাপ্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। এই অর্থ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যয় করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে, যাতে সামান্য শ্বাসকষ্ট বা জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের রাজধানীমুখী হতে না হয়।
পরিদর্শনের সময় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ করে বলেন, “বাংলাদেশের অনেক হাসপাতাল ঘুরেছি। অন্তত মন্ত্রী আসবে জেনেও আপনারা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখেননি। রান্নাঘরের পুরোনো ও অচল সরঞ্জাম, দাহ্য পদার্থ এবং রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসপত্র অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তিন মাস সময় দিয়েছি। এখন আর অজুহাত নয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ও শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু হাসপাতাল প্রস্তুত রাখলেই হবে না, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “রোগীদের অযথা রেফার না করে স্থানীয় পর্যায়েই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই একটি পরিবার। জনগণের সেবায় যার যা প্রয়োজন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”




