নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং দুই মাদক কারবারি আহত হয়েছেন। পুলিশ ১৫ কেজি গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি মনির ওরফে ফাইটার মনিরকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ মনির ওরফে ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) এবং মাসুম (২৪) নামে তিনজনকে আটক করা হয়।
আটকের খবর পেয়ে মনিরের সহযোগী কয়েকজন মাদক কারবারি ঘটনাস্থলে এসে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে।
এ ঘটনায় এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক আহত হন। এছাড়া মাদক কারবারিদের পক্ষের আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের শহরের খানপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “মাদক কারবারিদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আমাদের পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে কেউ গুরুতর নন এবং সবাই সুস্থ আছেন।”
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি ফাইটার মনিরকে তার দুই সহযোগীসহ গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ছাড়িয়ে নিতে মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”




