পদ্মা রেলসেতুর পিলারের মাটি কাটায় ফের আলোচনায় রিয়াদ চৌধুরী 

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ ও পাশ থেকে মাটি কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পদ্মা রেলসেতুর নিরাপত্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেকু মেশিন ব্যবহার করে পদ্মা রেলসেতুর ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশ থেকে ব্যাপক পরিমাণ মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। কাটা এসব মাটি পাশের ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাটি অপসারণের ফলে পিলারসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে অনেকটা পুকুরসদৃশ জলাধারে পরিণত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পিয়াস বলেন, “২০২৪ সালেও এখানে মাটি কাটার চেষ্টা হয়েছিল। তখন স্থানীয়দের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি রাতের আঁধারে মাটি কেটে এলাকাটিকে প্রায় একটি বড় জলাশয়ে পরিণত করা হয়েছে।”

স্থানীয় সাংবাদিক মণি ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে খুলনা থানার বিএনপি সাবেক বহিষ্কৃত নেতা রিয়াজ চৌধুরী ও সাগর সিদ্দিকী সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি অপসারণ করেছে। এখান থেকে প্রায় চার শতাধিক ট্রাক মাটি সরানো হয়েছে।” তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হিসেবে আলোচনায় আসা ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “যারা মাটি কাটার অনুমোদন পেয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কোন বক্তব্য এখানে দেয়া দরকার নেই।”

অন্যদিকে, এখনো পর্যন্ত সন্তোষজনক কাগজপত্র পাওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা সন্তোষজনক কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেনি। তাই আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উপসচিব শিমুল কুমার সাহা ক বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ে কখনো এমন মাটি কাটার অনুমতি দেয়া হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে। কারা, কী ধরনের অনুমতি নিয়ে এই কাজ করেছে, সে বিষয়ে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। পিলার সংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় আপাতত সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখান থেকে আর মাটি কাটা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”

রেলমন্ত্রীর রবিউল আলম বলেন, এই জায়গায় এখন থেকে আর মাটি কাটা হবে না, এখানে গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।

সর্বশেষঃ