মন্ত্রীর আল্টিমেটামেও ঠিক হয়নি ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জ সরকারি জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) এখনো পুরোপুরি অব্যবস্থাপনার চক্র থেকে বের হতে পারেনি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পরিদর্শনে গিয়ে এই অবস্থা ব্যবস্থাপনা দেখতে পান।

সারেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীসেবা ও খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পাশাপাশি নতুন করে পানি সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

গত ১৪ জুন হাসপাতালের নবনির্মিত আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করতে এসে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। এ সময় রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্নতা, হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ এবং নানা ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটানোর নির্দেশ দেন।

তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান রোগীদের কাছ থেকে ভিন্ন চিত্র শুনেছেন। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, চার দিন ধরে হাসপাতালের ওয়াশরুমে পর্যাপ্ত পানি নেই। ফলে তারা গোসলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক রোগী হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, খাবারের গুণগত মান উন্নয়নের বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পরিদর্শন শেষে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এই উন্নতিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। হাসপাতালের সেবার মান আরও বাড়াতে হবে এবং রোগীদের অভিযোগগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।”

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। ফলে সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হয়নি। তবে আমরা নিয়মিত হাসপাতালটি পরিদর্শন করবো। প্রয়োজন হলে রাতেও পরিদর্শন করা হবে। রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: মশিউর রহমান বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া আমরা তা চালিয়ে যাচ্ছি।

সর্বশেষঃ