নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে এক গার্মেন্টস শ্রমিককে ছিনতাইকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই নিরাপত্তাকর্মী। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) ভোরে মামলার প্রধান আসামি কুখ্যাত সন্ত্রাসী মামুন ইসলাম ওরফে বিশুকে গ্রেপ্তার করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নাঈম লিমন (২০), রানা (১৮), রিয়াদ বাবু (২০), আরিফ বাবু (১৯) এবং মামলার প্রধান আসামি মামুন ইসলাম ওরফে বিশু।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্পনগরীর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বিশু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিসিক শিল্পনগরীর পানির ট্যাংকি সংলগ্ন ডিজাইন ফ্যাশন অ্যান্ড এমব্রয়ডারি কারখানার সামনে এমবি নিট ফ্যাশনের শ্রমিক জিহাদ আলমকে ঘিরে ধরে কয়েকজন যুবক। ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। জিহাদের চিৎকার শুনে নিরাপত্তাকর্মী শাহজাহান আলী ও তার সহকর্মী সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
এ সময় অভিযুক্তরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মামুন ইসলাম ওরফে বিশু ধারালো ছুরি দিয়ে শাহজাহান আলীকে কোপ দিলে তার নাক, উপরের ঠোঁট ও ডান গালের অংশে গুরুতর জখম হয়। পরে অন্যরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। একই সময়ে সুমন মিয়া এগিয়ে এলে তার বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য প্রহরীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় নাঈম লিমন, রানা, রিয়াদ বাবু ও আরিফ বাবুকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে তাদের ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আহত শাহজাহান আলী ও সুমন মিয়াকে স্থানীয়দের সহায়তায় খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে শাহজাহান আলী বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা, হত্যাচেষ্টা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফতুল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রধান আসামি বিশুর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিসিক শিল্পনগরী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।




