সোনারগাঁও প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের একসময়ের ত্রাস শামীম ওসমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নাম ভাঙিয়ে বিগত দেড় দশক জুড়ে আধিপত্য বিস্তারকারী মমিনুল মোমেন শিকদার ওরফে আনোয়ার হোসেন এখন রাতারাতি ভোল পাল্টে বিএনপি নেতা সাজতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বাঁচাতে এবং নতুন করে কায়েমী স্বার্থ হাসিল করতে তিনি রাজনৈতিক রঙ বদলে এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও তৃণমূলের বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিগত আওয়ামী শাসনামলে শামীম ওসমান ও সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই মোমেন শিকদার। এমনকি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাথে তার গভীর সখ্যতার একাধিক ছবি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতেন তিনি। তৎকালীন এমপি কায়সার হাসনাতের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের জোগান দেওয়া এবং কায়সারের পিএস আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে মিলে একাধিক সিন্ডিকেট ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শামীম ওসমানের সঙ্গেও তার সরাসরি আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসা দেখভালের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।
তবে ৫ আগস্টের পর থেকে এই চতুর মোমেন শিকদার নতুন চক্রান্তে মেতে উঠেছেন। এতদিন যে আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়ে সুবিধা নিয়েছেন, এখন তাদের ছেড়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে ছবি তুলে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে জাহির করছেন। লন্ডনভিত্তিক বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতার নাম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁওয়ের স্থানীয় নেতাদের বড় পদ-পদবি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পুরো দলকে বিভ্রান্ত করার মিশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
শুধু দলীয় নাম ভাঙানোই নয়, সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ-এর মেঘনা নদী খনন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মোমেন শিকদার। নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাট করে তিনি একদিকে পরিবেশের অপরিসীম ক্ষতি করছেন, অন্যদিকে বিএনপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছেন।
সোনারগাঁ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৭ বছর যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে সব সুবিধা ভোগ করেছে এবং বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, সে এখন নিজের অপরাধ ঢাকতে বিএনপি সেজে বসেছে। এসব ভুঁইফোড় ও সুবিধাবাদী অপরাজনীতিবিদদের দলে কোনো স্থান হতে পারে না। এরা সমাজের কীট।
অভিযোগের বিষয়ে মোমেন শিকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের অপকর্ম ঢাকার অপচেষ্টা করে বলেন, লন্ডনে শামীম ওসমানের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। শামীম ওসমানের সাথে ছবি থাকলেই আমি খারাপ হয়ে গেলাম না।” তবে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে নেন যে, তার লোকেরা এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিল।
আওয়ামী দুঃশাসনের সহযোগী, অর্থপাচারকারী ও অবৈধ বালু খেকো এই মোমেন শিকদারের মতো সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সোনারগাঁওয়ের সর্বস্তরের জনগণ। তাকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করলে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পরিবেশ কোনোভাবেই শান্ত হবে না বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল। ইতোমধ্যেই তার অপকর্মের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।




