শিল্প ও বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত এক মাসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারি অস্ত্র ছিনতাই এবং এক সাংবাদিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই
গত ৯ মার্চ ভোরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় টহলরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমানের পথরোধ করে তিন দুর্বৃত্ত। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা তার সরকারি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়। পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাই হওয়া পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাংবাদিক অপহরণ
একই দিন সন্ধ্যায় রূপগঞ্জের তারাবো এলাকা থেকে সাংবাদিক মাইনুল ইসলামকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের পর পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
বাড়ছে ছিনতাই
খবর নারায়ণঞ্জের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক মাসে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, সাইনবোর্ড, ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চল এবং রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে ‘টানা পার্টি’ ও ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ছাড়া বিসিক শিল্পাঞ্চলে সন্ধ্যার পর নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশের বক্তব্য
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অভিযান চালানোর পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।




