নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাড়ির দলিল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছোট ভাই মো. রাফি ওরফে মোহনকে (৩৪) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই উজ্জল মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোঃ মাহবুব আলম।
এর আগে, শনিবার (১৬ মে) রাতে শরীয়তপুরের একটি চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত উজ্জল মিয়া ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ সোনার বাংলা রোড এলাকার ফাজিলপাড়ার বাসিন্দা এবং মো. বাবুল মিয়ার ছেলে। নিহত মোহন পেশায় গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত উজ্জল ছিলেন অটোরিকশাচালক। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস ধরেই বাবার কাছে বাড়ির দলিল দাবি করে আসছিলেন উজ্জল। দলিল দিতে রাজি না হওয়ায় ছোট ভাই মোহনকে দিয়েও বাবার কাছ থেকে দলিল নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
এরই জেরে শুক্রবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির দ্বিতীয় তলার উত্তর-পূর্ব পাশের কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় মোহনের ওপর হামলা চালান উজ্জল। ধারালো বটি দিয়ে তার মাথার দুই পাশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
মোহনের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও নিচতলার ভাড়াটিয়ারা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থলেই বটি ফেলে পালিয়ে যান উজ্জল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোহনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বাবুল মিয়া বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মাহাবুবুর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পরপরই উজ্জল পালিয়ে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরীয়তপুরের চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”




