নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বক্তাবলীর আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাতে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত হিরুকে আটকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হিরুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হিরুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত অপর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে।
শনিবার সকালে ফতুল্লা থানা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দিয়ে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, “এটি একটি পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক অপরাধ, যা সমাজে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ভুক্তভোগী পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একজন গ্রেপ্তার আছে এবং অপরজন পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন যে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) জহিরুল ইসলাম কালের কন্ঠকে বলেন, “ইতিমধ্যে মেয়েটির মেডিকেল করা হয়েছে। কিছু আলামত আমরা পেয়েছি। আগামীকালের মধ্যে আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারব।”
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাক্তার মশিউর রহমান কালের কন্ঠকে জানান, মেয়েটির মেডিকেল গুরুত্বের সাথে করা হয়েছে। এক্সরে রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিব। যেহেতু সংবেদনশীল বিষয় তাই মৌখিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।




