নারায়ণগঞ্জের বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের মবের স্বীকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ইসমাইল হোসেন দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে পুনরায় স্বপদে বহাল হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, মোঃ ইসমাইল হোসেন ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বিধি মোতাবেক বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মদদপুষ্ট গভর্নিং বডির সভাপতি ও কয়েকজন সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করায় তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে মব করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে কলেজ শাখার একজন প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাউশির সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে পাঠানো হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মাউশির ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে গভর্নিং বডির সভাপতি বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। পরে বাধ্য হয়ে ইসমাইল হোসেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-১৮৫৬৮/২০২৫ দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের নির্দেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি বছরের গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে পুনরায় বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দেয়।
এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা নিয়ে তিনি ও কলেজ শাখার প্রভাষক এম. এম. রফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় এডিসি হাইকোর্টের রায় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়নের পক্ষে সম্মতি জানান।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ইসমাইল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমি সবসময় নিয়মনীতি মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণেই আমাকে অপসারণ করা হয়েছিল। আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। এখন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করতে চাই।”




