গতকাল সোমবার (১ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ পাড়া এলাকায় হাজী ফোরকান আহমেদের গরুর খামারে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির শিকার হয়েছেন অভিযুক্ত মোঃ ফারুক মোল্লা। পরবর্তীতে পুলিশ প্রায় দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাত ৩টার দিকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার বালুচর এলাকার সুলতান মোল্লার ১১ বছর বয়সী কন্যা ভিকটিম রুমানা বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের সৈয়দ পাড়া এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করে। রাতে বোনের বাসা থেকে নিজের বাসায় ফেরার পথে প্রতিবেশী অভিযুক্ত মোঃ ফারুক মোল্লা তাকে আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর মেয়েটিকে জোরপূর্বক হাজী ফোরকান আহমেদের গরুর খামারের একটি ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এসে ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে। একপর্যায়ে ফারুক মোল্লা ঘরের দরজা খুললে শিশু রুমানা বের হয়ে আসে। উপস্থিত জনতা তার চিৎকারের কারণ জানতে চাইলে সে বিস্তারিত খুলে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে গণপিটুনি দেয়।
ঘটনার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা চালালে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জাকিরুল ইসলাম বিপুল সংখ্যক পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রাত আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় অভিযুক্ত মোঃ ফারুক মোল্লাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মোঃ ফারুক মোল্লা শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার কথা এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
আটককৃত মোঃ ফারুক মোল্লা পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার চর বিশ্বাস এলাকার মৃত আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। সে বর্তমানে গোদনাইলের সৈয়দ পাড়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফোরকান আহমেদের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফারুক মোল্লা এবং ভিকটিম শিশুটিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।




