নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ পৌরসভার ফতেকান্দি এলাকায় সরকারি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং এর প্রতিবাদ করায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার সকালে স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতেকান্দি গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব অনিক খাঁন সিয়ামের সঙ্গে প্রতিবেশী তাইজুল ইসলামের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে গত ২ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলার বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার রাতে গ্রামের একটি সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বুধবার সকালে এলাকাবাসী রাস্তা বন্ধের প্রতিবাদ করলে অনিক খাঁন সিয়ামের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় দুটি ঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফতেকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তমিজউদ্দিন বলেন, “বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী এ রাস্তা ব্যবহার করে আসছে। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।”
ভুক্তভোগী তাইজুল ইসলাম বলেন, “বাড়ির সীমানা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। এর প্রতিবাদ করায় আমার ভাতিজা আবুল বাশারের দুটি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত অনিক খাঁন সিয়াম বলেন, “রাস্তা বন্ধ কিংবা বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক শাকিল সাইফুল্লাহ বলেন, “বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে উদ্ভূত বলে মনে হচ্ছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। এতে আমাদের রাজনৈতিকভাবে কোনো আপত্তি নেই।”
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোনকল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




