সকালে দলের আনন্দ মিছিলে উচ্ছ্বাসে অংশ নিয়েছিলেন ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির জিলানী ও যুবদল নেতা মো. মাসুম বিল্লাহ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই দুই তরুণ নেতা।
তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একটি বর্জ্যবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আব্দুল কাদির জিলানী (২৬) ও মো. মাসুম বিল্লাহ (২৭)।
এর আগে একই দিন সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে নবগঠিত কেন্দ্রীয় যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত জেলা যুবদলের আনন্দ মিছিলে অংশ নেন কাদির ও মাসুম। সহকর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দুই নেতার কয়েক ঘণ্টা পর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দলীয় নেতাকর্মীদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে মোটরসাইকেলে করে তারা জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় একটি নতুন কয়েল কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে একই দিকে চলাচলকারী একটি বর্জ্যবাহী ট্রাককে ওভারটেক করার সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে জমে থাকা বালুর স্তূপে উঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্লিপ করে। এতে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে ট্রাকের নিচে চলে যান। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
নিহত মাসুম বিল্লাহ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চাঁদপুরা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি একটি কয়েল কারখানার মালিক ও কাঁচা তরকারি ব্যবসায়ী ছিলেন।
অপরদিকে আব্দুল কাদির জিলানী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুক্তিকান্দি গ্রামের নান্নু খন্দকার ও মাফুজা আক্তারের ছেলে। তিনি ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন এবং ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একটি বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”




