আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পরিবার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই শহীদ মো. আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই মো. আবুল বাশার অনিক।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার ভাই নিহত হন।
ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হলেও আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম চলছে।
সাক্ষ্যে আবুল বাশার অনিক বলেন, রংপুরে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে তিনি ও তার ভাই নিয়মিত আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করেন। ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি লিংক রোড এলাকায় আন্দোলন চলাকালে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমিরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, ডিস বাবুসহ ১৫০ থেকে ২০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় আদিল ও আবুল হোসেন মিঝি নিহত হন এবং এনআরবি মামুনসহ অনেকেই আহত হন বলেও জানান তিনি।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট সকালে তিনি ও তার ভাই কুশিয়ারা এলাকার বাসা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে চাষাড়া মোড়ের উদ্দেশে রওনা দেন। শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে মিশনপাড়া এলাকায় অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর চাষাড়া মোড় ও ল্যাবএইড হাসপাতালের গলির কাছে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া একটি গুলি তার ভাই আবুল হাসান স্বজনের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।
আবুল বাশার অনিক ট্রাইব্যুনালকে জানান, গুলিবিদ্ধ স্বজনকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর স্বজনের জ্ঞান ফিরলে তিনি প্রথমেই জানতে চান, “হাসিনার পতন হয়েছে কি না।” তাকে জানানো হয়, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন। তখন তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে মুচকি হাসেন।
সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়, পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল হাসান স্বজন মারা যান। পরে ৭ আগস্ট গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে আবুল বাশার অনিক দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা, গুলিবর্ষণ এবং তার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য শামীম ওসমানসহ অভিযুক্তদের দায়ী করা উচিত। মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।




